36 C
Dhaka
Friday, April 12, 2024

খোলা হয়েছে পাগলা মসজিদের দানবাক্স, মিললো ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট:

খোলা হয়েছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স। এবার সেই বাক্স থেকে তিন কোটি ৬০ লাখ ২৭ হাজার ৪১৫ টাকা পাওয়া গেছে।

শনিবার(২ জুলাই) সকাল ৮টার সময় মসজিদের দানবাক্স খোলার পর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টাকা গণনা শেষে এই হিসাব পাওয়া যায়। বিপুল পরিমাণ দানের এই নগদ টাকা ছাড়াও বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা ও দান হিসেবে বেশ কিছু স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে।

গত ১২ মার্চ সর্বশেষ এই দানবাক্স খোলা হয়েছিল। তখন সর্বোচ্চ তিন কোটি ৭৮ লাখ ৫৩ হাজার ২৯৫ টাকা পাওয়া যায়। সাধারণত তিন মাস পর পর পাগলা মসজিদের দান সিন্দুক খোলা হয়। এবার ৩ মাস ২০ দিন পর দান সিন্দুক খোলা হয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শনিবার সকাল ৮টার দিকে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মসজিদের আটটি দান সিন্দুক খোলা হয়। তবে আটটি দানসিন্দুকের মধ্যে ছয়টি দান সিন্দুকই খোলার অন্তত ১৫ দিন আগেই পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় সেগুলোতে দান গ্রহণ বন্ধ রাখা হয়েছিল।

মসজিদের দান সিন্দুক থেকে টাকা খুলে প্রথমে বস্তায় ভরা হয়। এ ধাপে বাক্স খোলার পর বড় বস্তায় ১৬ বস্তার কিছু বেশি টাকা হয়েছে। এরপর শুরু হয় দিনব্যাপী টাকা গণনা। টাকা গণনায় মসজিদ মাদরাসার ১৩২ জন ছাত্র, রূপালী ব্যাংকের ৭০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৩৪ জন মসজিদ মাদরাসার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ২৩৬ জন মানুষ অংশ নেন।

পাগলা মসজিদের মালামাল সংরক্ষক মো. বিল্লাল হোসেন জানান, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ মসজিদের দান সিন্দুকগুলোতে নগদ টাকা-পয়সা ছাড়াও স্বর্ণালঙ্কার দান করেন। দানসিন্দুকে দান করা ছাড়াও মসজিদের নিলামঘরে প্রতিদিন মানুষ নানা ধরনের জিনিসপত্র দান করেন। এসবের মধ্যে রয়েছে গরু-ছাগল, হাঁস-মুরড়ি, ফল-ফলাদি, কোরআন শরীফ ইত্যাদি। নিলামঘরে প্রতিদিন এসব নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হয়।

পাগলা মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শওকত উদ্দীন ভূঞা জানান, সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ এ মসজিদে দান করেন। তাদের বিশ্বাস, এখানে দান করলে রোগ-ব্যাধি থেকে মুক্তির পাশাপাশি মনের বাসনা পূরণ হয়। এই বিশ্বাস থেকেই দূর-দূরান্তের মানুষও এখানে দান করতে ছুটে আসেন। মজার বিষয় হচ্ছে, দান সিন্দুক খুললে চিঠি-পত্রও পাওয়া যায়। সেসব চিঠিতে দানকারীরা নিজেদের মনের বাসনার কথা লিখে দেন।

পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম জানান,  সারা বাংলাদেশে একটি বিখ্যাত মসজিদ এই পাগলা মসজিদ। এখানে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ নামাজ পড়তে আসেন। অনেকেই বিশ্বাস করেন, এখানে দান করলে মনের বাসনা পূরণ হয়। সারা বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের বাইরে থেকেও লোকজন আসেন এবং তারা দান করেন। আমাদের এখানে এখন স্থান সংকুলান হচ্ছে না, অনেক কষ্টের মধ্যে মুসল্লিরা নামাজ পড়ছেন। আমরা মসজিদ কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা এখানে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্স করবো। যেখানে একসঙ্গে ৩০ হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারবেন। নারীদের জন্যও থাকবে আলাদা নামাজের ব্যবস্থা। অচিরেই এর নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

কিশোরগঞ্জ শহরের ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে পাগলা মসজিদ অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান। শহরের পশ্চিমে হারুয়া এলাকায় নরসুন্দা নদীর তীরে ১০ শতাংশ ভূমির ওপর এই মসজিদটি গড়ে উঠেছিল।

সর্বশেষ সংবাদ

বান্দরবান ভ্রমণে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলছে যৌথবাহিনীর অভিযান। এ অভিযানের মধ্যে সেখানে ঘুরতে যেতে পর্যটকদের নিরুৎসহিত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. দিদারুল আলম...

আ.লীগের মতো ককটেল পার্টিতে বিএনপি বিশ্বাসী নয়: রিজভী

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপি পবিত্র রমজান মাসে কতগুলো ইফতার পার্টি করেছে, তা গণনার জন্য সরকার লোক নিয়োগ করেছে। বিএনপি...

আওয়ামী লীগ খেতে নয়, জনগণকে দিতে আসে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এবার ইফতার পার্টি না করে আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে মানুষের কল্যাণে কাজ করে। দলটি খেতে নয়, জনগণকে দিতে আসে। বৃহস্পতিবার (১১...

প্রতিবেশীসহ সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করুন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সবার জন্য সুখী, আনন্দময় ও নিরাপদ ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আগামীকাল সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে। আজ বুধবার এক...

জিম্মি জাহাজেই ঈদের নামাজ আদায় করলেন নাবিকরা

জাহাজেই ঈদে নামাজ আদায় করেছেন সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর নাবিকরা। বুধবার (১০ এপ্রিল) বিভিন্ন দেশের মতো সোমালিয়ায় ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে।...