36 C
Dhaka
Friday, April 12, 2024

সিলেটে হু হু করেই বাড়ছে বন্যার পানি, নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন

ডেস্ক রিপোর্ট:

সিলেটে ক্রমেই বাড়ছে বন্যা পরিস্থিতি। রান্না-বান্নার ব্যবস্থা বন্ধ। অনেকের ঘরে নেই শুকন খাবার। অভাব দেখা দিয়েছে সুপেয়ে পানির। আশপাশে কোথাও বুক, আবার কোথাও গলাসমান পানি। যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে আশপাশের অনেক এলাকার সঙ্গে। এখন কমবেশি এমন চিত্র সিলেটের বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর। মাত্রাতিরিক্ত পানি ঘরে ঢুকে পড়ায় কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটের অনেক মানুষ পুরোপুরি ঘরবন্দী হয়ে পড়েছেন।

এমন অবস্থায় বন্যার পানিতে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় সেনাবাহিনী নামানো হচ্ছে। শুক্রবার (১৭ জুন) সকাল ১০টায় সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটের বাসিন্দা ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলেও যেসব এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি থাকলেও রাতের মধ্যে তা বেড়ে গলাসমান হয়ে গেছে। শুক্রবার সকালে অনেক মানুষকে ঘরের চালায় আশ্রয় নিতে হয়েছে। বৃষ্টি হওয়ায় সেখানেও তারা থাকতে পারছেন না। নৌকা না থাকায় আশ্রয়কেন্দ্রেও যেতে পারছেন না।

সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক উপচে পানি তীব্র বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে এ সড়কে ঝুঁকি নিয়ে সীমিত পরিসরে যান চলাচল করছে। অন্যদিকে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ সকাল ৬টার তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদীর দুটি ও কুশিয়ারা নদীর একটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া সারি নদের একটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানিও ক্রমশ বাড়ছে বলে পাউবোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বানভাসি মানুষেরা জানিয়েছেন, বন্যার পানি বেড়ে যাওয়ায় অনেকে বাড়িঘরে আটকা পড়েছেন। তারা এ অবস্থা থেকে উদ্ধার চান। এছাড়া অনেক বন্যার্ত খাবার ও পানির সংকটে সবচেয়ে বেশি পড়েছেন। ঘরে হাঁটু থেকে গলাসমান পানি ওঠায় অনেকে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। অনেকে ত্রাণও পাচ্ছেন না। এতে তৈরি হয়েছে চরম মানবিক বিপর্যয়। পানি যত বাড়ছে, সংকটও তত বাড়ছে।

স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বন্যাকবলিত মানুষেরা জানিয়েছেন, সিলেট নগরের অন্তত ২০টি এলাকার পাশাপাশি জেলার কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, সদর, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ছয় শতাধিক গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এসব এলাকায় বেড়েছে জোঁক, সাপ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব। চলাচলের জন্য মিলছে না নৌকা। ফলে জরুরি প্রয়োজনে কেউ ঘরের বাইরে বেরোতে পারছেন না।

একাধিক জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক উপচে পানি তীব্র বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে এ সড়কে ঝুঁকি নিয়ে সীমিত পরিসরে যান চলাচল করছে। অন্যদিকে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় গোয়াইনঘাট উপজেলাও জেলা শহরের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। যাদের বাড়িঘরে পানি উঠেছে, তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে নতুবা নিরাপদ স্থানে চলে আসতে বলা হচ্ছে। খাদ্যসংকট দূর করতে দেওয়া হচ্ছে ত্রাণ সহায়তা। সেনাবাহিনী দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করবে।

সর্বশেষ সংবাদ

বান্দরবান ভ্রমণে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিষেধাজ্ঞা

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলছে যৌথবাহিনীর অভিযান। এ অভিযানের মধ্যে সেখানে ঘুরতে যেতে পর্যটকদের নিরুৎসহিত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. দিদারুল আলম...

আ.লীগের মতো ককটেল পার্টিতে বিএনপি বিশ্বাসী নয়: রিজভী

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বিএনপি পবিত্র রমজান মাসে কতগুলো ইফতার পার্টি করেছে, তা গণনার জন্য সরকার লোক নিয়োগ করেছে। বিএনপি...

আওয়ামী লীগ খেতে নয়, জনগণকে দিতে আসে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এবার ইফতার পার্টি না করে আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে মানুষের কল্যাণে কাজ করে। দলটি খেতে নয়, জনগণকে দিতে আসে। বৃহস্পতিবার (১১...

প্রতিবেশীসহ সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করুন: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সবার জন্য সুখী, আনন্দময় ও নিরাপদ ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আগামীকাল সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপিত হবে। আজ বুধবার এক...

জিম্মি জাহাজেই ঈদের নামাজ আদায় করলেন নাবিকরা

জাহাজেই ঈদে নামাজ আদায় করেছেন সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহর নাবিকরা। বুধবার (১০ এপ্রিল) বিভিন্ন দেশের মতো সোমালিয়ায় ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে।...