১৮ জুলাই ২০২৪,
দেশজুড়ে তখন স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন তুঙ্গে। আর ওইদিন কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন সেলিম তালুকদার।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে এলে গুলিবিদ্ধ হন সেলিম। ১৫ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩১ জুলাই রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
নিহত সেলিমের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা শহরের টিএনটি এলাকায়। তিনি নারায়ণগঞ্জের মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডাইং মিলস লিমিটেডে সহকারী মার্চেন্ডাইজার হিসেবে চাকরি করতেন।
সেলিমের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি জানতেও পারেননি যে তার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। মৃত্যুর পর তাদের ঘরে জন্ম নেয় এক কন্যা সন্তান সায়মা সেলিম রেজা। বর্তমানে শিশুটি বাবাহীন অবস্থায় বড় হচ্ছে।
৩১ আগস্ট রবিবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক আবেগঘন পোস্ট দেন শহীদ সেলিমের স্ত্রী।
পোস্টে তিনি লিখেন, একটা সময় ছিলো যখন, ফুল পছন্দ করি বলে কখনো খালি হাতে আসো নি, ফুল ছাড়া আমার কাছে আসার সময় আমার জন্য ফুল নিয়ে আসতে। এখন বছরের পর বছর চলে যায় ফুল ও নেই আর মানুষ ও নেই। তাই তো আমি তোমায় ফুলের মতোই ভালোবাসি।
তিনি আরও লিখেন, ১৭বছর বয়সে তোমাকে হারানোর কষ্ট টা আমারে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কাঁদাবে। মস্তিষ্কের প্রত্যেকটা নিউরনে তোমার স্মৃতি চাইলেই কি ভুলে থাকা যায়।
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এক সময় বাসায় শত শত ফুল জড়ো হয়ে থাকতো। এখন ফুল দেওয়ার মানুষটা আর নেই। ফুলের দোকান বা ফুল দেখলেই আমার হাতে এনে দিতো নাহলে কানে ঘুজে দিতো। সে আর নেই কিন্তু তাকে আমি ফুলের মতোই খুব যত্ন করে ভালোবাসি। অনেক ভালোবাসি।