কিশোরগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা ও তিনজনকে হত্যার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-ওবায়দুল কাদেরসহ ১৬৫ জনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৮ মাস পর আরেকটি মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত বছরের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনাকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে। এই মামলা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
সোমবার (২৪ মার্চ) কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় মামলাটি করেন আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত মো. তরিকুল ইসলাম। বাদী তরিকুল নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি কিশোরগঞ্জ শহরের উকিলপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে গুরুদয়াল সরকারি কলেজে স্নাতক তৃতীয় বর্ষে পড়াশোনা করেন।
গত বছরের ৪ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনে তিনি আহত হয়েছিলেন বলে জানান।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ শহরের আখড়া বাজার সেতু থেকে শহীদী মসজিদ এলাকায় ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলছিল। ওই সময় আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে গুলি ছোড়া হয়। এ সময় বাদীসহ বেশ কয়েকজন আহত ও তিনজন নিহত হন।
মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ নিয়ে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শুধু সদর থানায় ১৫টির মতো মামলা করা হয়েছে।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত সদর থানায় ১৫টিসহ জেলায় অর্ধশতাধিক মামলা হয়েছে।
এসব মামলায় প্রায় ৪ হাজার জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০ হাজারের বেশি লোককে আসামি করা হয়েছে।মামলার প্রধান আসামি শেখ হাসিনা ছাড়াও আসামিদের তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদ, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, কিশোরগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ ওমান খান, সাবেক সভাপতি লিমন ঢালী, জেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মাহমুদ পারভেজ, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেন প্রমুখ।