ঢাকার পল্লবী থানায় গভীর রাতে ঢুকে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ওই তরুণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলামসহ অন্তত তিন পুলিশ সদস্যকে মারধর করেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ ঘটনায় ওই তরুণসহ মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (১০ মার্চ) রাত পৌনে ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ওসি নজরুল ইসলাম।
তিনি জানান, অভিযুক্ত তরুণের নাম আব্দুর রাজ্জাক ফাহিম (২২-২৩)। তিনি থানায় ঢুকেই ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, “আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে, খুন হয়েছে—আপনারা কী করছেন?”
এ সময় ওসি নজরুল ইসলাম তাকে শান্ত করে বলেন, “আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছি।”
তবে ফাহিম আরও উত্তেজিত হয়ে বলেন, “আপনারা কিছুই করছেন না। খুন হয়েছে, আর আপনি জানেন না!”
ওসি তাকে বুঝিয়ে বলেন, “আমি খুনের কোনো ঘটনা জানি না।” এ কথা শুনে তরুণটি আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, “আপনার ডিউটি অফিসার জানেন, আর আপনি জানেন না?”
এরপর ওসি ফাহিমকে নিয়ে ডিউটি অফিসারের কক্ষে যান। সেখানে উপস্থিত দুই ব্যক্তিকে দেখিয়ে তরুণটি বলেন, “তারা খুনের ঘটনা জানেন।” কিন্তু ওই দুই ব্যক্তি জানান, তারা কিছুই জানেন না।
এ পর্যায়ে ওসি ফাহিমের হাত ধরে শান্ত করার চেষ্টা করলে তিনি এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন।
এ সময় ওসিকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসেন অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু ফাহিম তাদেরও আঘাত করেন। এতে এক পুলিশ কর্মকর্তার আঙুল ভেঙে যায় এবং অন্য একজনের মুখ ফুলে যায়।
পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তরুণটিকে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়।
আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে ফাহিম জানান, তিনি ও তার তিন বন্ধু গাজীপুর থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে পল্লবী এলাকায় ঘুরতে এসেছিলেন।
থানার বাইরে অপেক্ষমাণ তার তিন বন্ধুকেও পুলিশ থানায় নিয়ে আসে এবং মাইক্রোবাসটি জব্দ করে।
পুলিশ জানায়, মাইক্রোবাসটিতে একটি বেসরকারি টেলিভিশি চ্যানেলের লোগো সংবলিত স্টিকার ছিল।
ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, “ফাহিমের তিন বন্ধু জানায়, তারা শুধু ঘুরতে বের হয়েছিল। তবে ফাহিম কেন থানায় ঢুকে এমন আচরণ করল, তা তারা জানে না।”
ফাহিম একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পুলিশ ধারণা করছে, ফাহিম মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন অথবা মাদকাসক্ত হতে পারেন।
ওসি জানান, “ফাহিমের বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছুক্ষণ কথা বলে ফোন রেখে দেন।”
পুলিশ এখন আটক চারজনের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করছে এবং তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল, তা জানার চেষ্টা করছে।