আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ গনতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ (বাগছাস)। ইশতেহারে ৮টি প্রস্তাবনায় মোট ৫০ দফা দাবি উপস্থাপন করে তারা।
শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেল তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ইশতেহার ঘোষণা করে দলটি।
এসময়, বাগছাস সমর্থিত “বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ” প্যানেলের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের, জিএস প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার ও এজিএস প্রার্থী আশরেফা খাতুন যথাক্রমে ইশতেহার পাঠ করেন।
ইশতেহারে ৮টি প্রস্তাবনায় মোট ৫০টি দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রথম প্রস্তাবনা হলো ‘রাজনৈতিক।’ সেখানে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন নিশ্চিত করা,বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় রাজনীতির মহড়া, অস্ত্রের ঝনঝনানি এবং ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে জীবন, কর্ম, জ্ঞান, দক্ষতা ও সেবাভিত্তিক নাগরিক তৈরি করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা, হল ও একাডেমিক অঙ্গনে দলীয় রাজনৈতিক কাঠামো বন্ধ করা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন, নিপীড়ন ও জুলুমের সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার প্রস্তাবনা রয়েছে।
২য় প্রস্তাবনা হলো একাডেমিক ও প্রশাসনিক। এর অধীনে রয়েছে গণতান্ত্রিক সংস্কার, প্রশাসনিক পদগুলোতে নিয়োগের স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়ন,
ওয়ান স্টপ সলিউশন, ও প্রশাসনিক ভবনের অধিকাংশ কাজ “পেপারলেস’ করা।
এছাড়াও, এ প্রস্তাবনায় লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের পরিধি বৃদ্ধি, আধুনিক ক্লাসরুম ও পাঠদানের জন্য ক্লাসে ডিজিটাল উপকরণ নিশ্চিত, ল্যাব ফ্যাসিলিটির আধুনিকায়ন, শিক্ষক মূল্যায়ন, দশতলা বিশিষ্ট একটা স্বতন্ত্র স্টাডি স্পেস নির্মাণ, ক্রেডিট ট্রান্সফার, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল রাস্তা ও হলের সম্মুখভাগ আলো ও সিসিটিভির আওতায় নিয়ে আসার কথা বলা হয়েছে।
৩য় প্রস্তাবনায় রয়েছে স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার। এখানে, “ওয়ান কার্ড অল সার্ভিস” এর মাধ্যমে লাইব্রেরি একসেস, স্বাস্থ্য সেবা, পরিবহন সেবা, ক্যান্টিন সেবা, হলের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, “ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান সিট” নীতিমালার বাস্তবায়ন, আবাসন সংকট দূরীকরণে চাহিদাপত্র অনুযায়ী হলে শিক্ষার্থীদের এটাচমেন্ট দেয়া, আবাসন সংকট পরিপূর্ণ দূরীকরণ পর্যন্ত যারা সিট পাবে না তাদেরকে আবাসন ভর্তুকির আওতায় আনা, প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরুর এক সপ্তাহ আগে সিট নিশ্চিত করা এবং স্নাতকোত্তর রেজাল্ট প্রকাশের এক সপ্তাহ পরে সিট ছেড়ে দেওয়া।
এছাড়া, শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবীমা, মেডিক্যাল সেন্টারের আধুনিকায়ন ও সকল শিক্ষার্থীর জন্য ল্যাপটপ নিশ্চিতে প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক সুদবিহীন লোনের ব্যবস্থা করা হবে।
৪র্থ প্রস্তাবনায় রয়েছে স্টুডেন্ট ডিগনিটি। এর মধ্যে রয়েছে দাড়ি-টুপি, বোরকা-হিজাব সহ পোশাক ও আঞ্চলিকতা কেন্দ্রিক মোরাল পুলিশিং এর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত এবং
ভিন্নধর্মাবলম্বী, জাতিসত্তা ও মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা শিক্ষার্থীদের অপরায়ন ও বৈষম্য বন্ধ করা।
৫ম প্রস্তাবনা হলো ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি। এর মধ্যে রয়েছে ‘স্টারলিংক এর মাধ্যমে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাকে উচ্চগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সেবার আওতায় নিয়ে আসা, সকল একাডেমিক বিল্ডিং ও হলকে এডুরোমের মাধ্যমে ফ্রি ও ফাষ্ট ইন্টারনেটের আওতায় নিয়ে আসা।
এ প্রস্তাবনায় আরো রয়েছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জন্য পৃথক চক্রাকার বাসের ব্যবস্থা করা,
“ওয়ান কার্ড অল সার্ভিস” সেবা চালু, ডাকসু ও টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ার খাবারে ভর্তুকি প্রদান ও মান বৃদ্ধি করা, সোশ্যাল সাইন্স, মোকাররম ও কাজী মোতাহর হোসেন ভবনে ক্যান্টিন ক্যাফেটেরিয়া স্থাপন করা।
পরবর্তী প্রস্তাবনা হলো ক্যারিয়ার ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট। এর মধ্যে রয়েছে সেন্ট্রাল লাইব্রেরী ও সাইন্স লাইব্রেরীর আধুনিকায়ন, ২৪ ঘন্টা লাইব্রেরি সেবা নিশ্চিত, ই লাইব্রেরি চালু করা এ এফবিএসের ডাটা সেন্টার চালু করা।
এছাড়া, এ প্রস্তাবনায় ক্যারিয়ার ক্লাব প্রতিষ্ঠা, আউটসোর্সিং ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, বিজনেস ও উদ্যোক্তাদের জন্য হাব তৈরির প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
৭ম প্রস্তাবনা হলো কালচারাল ও স্পোর্টস ভিত্তিক। এর অধীনে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব মিউজিয়াম এবং কালচারাল সেন্টার তৈরি, আধুনিক গেইমসরুম এবং জিমনেসিয়াম স্থাপন, সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে বরাদ্দ বৃদ্ধি , হলভিত্তিক খেলার মাঠগুলোকে সংস্কার ইত্যাদি।
সর্বশেষ প্রস্তাবনা হলো নারীদের নিয়ে। এ প্রস্তাবনায় রয়েছে নারী হলগুলোতে খেলাধুলার সুযোগসুবিধা বৃদ্ধি, সমাজকল্যাণ এরিয়াতে ২৪ ঘন্টা এম্বুলেন্স সার্ভিস নিশ্চিত, বিশ্ববিদ্যালয়, টিএসসি, সেন্ট্রাল মসজিদ সহ অন্যান্য জায়গায় মেয়েদের নামাজের স্থান প্রসারিত করা, অনাবসিক মেয়েদের হলে নারী শিক্ষার্থীদের প্রবেশাধিকার দেওয়া, জনপরিসর বা কমন স্পেসগুলো নারীবান্ধব করা ইত্যাদি।