যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মধ্যে, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১৫ শতাংশ। এ সিদ্ধান্তকে অনেক দেশই ‘বাণিজ্য যুদ্ধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে
বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় ধরনের ধাক্কা, কারণ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রফতানি বাজার। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক হারে রফতানি হয়। ২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮.৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে, যার মধ্যে বড় অংশই ছিল তৈরি পোশাক। গত বছর, ২০১৯ সালে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি ছিল ৭.৩৪ বিলিয়ন ডলার।
এখন, নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বুধবার হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করেন এবং নতুন শুল্কের ঘোষণা দেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে এই দিনটিকে অভিহিত করেন। ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে এমন শুল্ক আরোপের জন্য অপেক্ষা করছিল।
এছাড়া, অন্য দেশগুলোর ওপরও শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। ভারতের পণ্যের ওপর ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের ওপর ২৯ শতাংশ, চীনের ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের পণ্যের ওপর ৪৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
এ দিকে, ট্রাম্প কঠোর বাণিজ্য নীতির আওতায় বিদেশি গাড়ির ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তও নিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের গাড়ি উৎপাদনের বেশিরভাগই তাদের নিজ দেশে বিক্রি হয়, এবং যুক্তরাষ্ট্রে এই গাড়ির বিক্রি খুবই কম।
এ শুল্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে ট্রাম্প ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রতি তার প্রতিশ্রুতি আরো একবার নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পুনর্জন্মের সূচনা হবে এবং দেশটিকে আবারও শক্তিশালী করবে। সূত্র: রয়টার্স