রবিবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শ্মশান কমিটির বিরুদ্ধে জায়গা দখলের অভিযোগ

এস এম কিবরিয়া,ব্রাহ্মণবাড়িয়া
-বিজ্ঞাপণ-spot_img

আমরা শ্মশানের জমি দখল করিনি, বরং শ্মশান কমিটি আমাদের ক্রয়কৃত জমি দখল করেছে বলে অভিযোগ তুলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার কলেজপাড়ার আবু মোছা। 

রোববার (৩১ আগস্ট) সকালে আখাউড়ার কলেজপাড়ার বাধঁন কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

মোছা মিয়া বলেন, আখাউড়া উপজেলার রাধানগর মৌজায় ১৯৯৭ ও ২০০৩ সালে সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে মোট ৬৫ শতক জমি ক্রয় করেন তিনি ও তাঁর ভাইয়েরা। পরবর্তীতে বিএস জরিপে তাদের নামে ৬৯৯ নং বিএস খতিয়ান সৃজিত হয়। এর মধ্যে ১৬ শতক জমি বিক্রি করা হলেও বাকি জমি তাঁদের মালিকানায় বহাল থাকে।

তিনি অভিযোগ করেন, জীবিকার তাগিদে প্রবাসে থাকার সময়ে স্থানীয় শান্তিবন মহাশ্মশান কর্তৃপক্ষ তাঁদের বিএস ৬৯৯ খতিয়ানের বিএস ১০৯২ দাগে ৪ শতক ডোবা ও ১৭০০ দাগে ৬.৫৬ নাল ভুমি মোট ১০.৫৬ শতক জমি দখল করে নেয়। দেশে ফিরে তারা এ বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে প্রতিবাদ জানালেও একটি কুচক্রী মহলের ইশারায় শ্মশান কর্তৃপক্ষ উল্টো জমিটির মালিকানা দাবি করে  ভুক্তভোগী পরিবারটিকে নানা ভাবে হয়রানি সহ মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। যা আমার পরিবার শংকিত।

তিনি আরও বলেন,  বিচার না পেয়ে ২০০৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাব জজ কোর্টের একটি দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২০/২০০৯। বর্তমানে সেই মামলাটি আখাউড়া সহকারী জজ আদালতে ৯৫/২০২১ ইং সালের রুপান্তরিত হয়। পরে বিভিন্ন সময় আদালতের রায় আমার পক্ষে দিয়েছে। আদালতে নির্দেশ চলতি মাসের ২০ তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিততে সহকারী কমিশনার (ভুমি) তার অধীনস্ত সার্ভেয়ার নিয়ে মাপজোক করে বিভিন্ন দাগের অন্যন যায়গা গুলো চিহ্নিত করে দিয়ে যায় এবং  পাশাপাশি খাস খতিয়ানের যায়গাগুলো ও চিহ্নিত করা হয়। কিন্তু বিরুৎপূর্ণ জায়গা নিষ্পতি না করেই প্রশাসনের লোকেরা চলে যায়।

তিনি দাবি করেন, খাজনা, নামজারি ও জমাখারিজসহ সব সরকারি নথিপত্রেই জমিটির মালিকানা তাঁর পরিবারের নামে বহাল রয়েছে। বর্তমানে জমির বাকি অংশে বসতবাড়ি, বহুতল ভবন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মিত হয়েছে এবং পৌরসভার নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্সও পরিশোধ করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আবু মোছা ভূঁইয়া ও তাঁর পরিবার ন্যায্য অধিকার রক্ষায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

শান্তিবন মহাশ্মশানের প্রধান পুজারী আশীষ ভ্রম্যচারী বলেন, শ্মশান কারো ব্যক্তি মালিকানা  জায়গা দখল করেনি বরং তারা আমাদের যায়গা দখল করছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতশী দর্শী চাকমা বলেন, আমরা সরকারি জায়গা মাপঝোঁক করে লাল নিশান দিয়েছি। এটা জেলা প্রশাসকের ১নং খাস খতিয়ানভূক্ত জায়গা।

শেয়ার করুন

সর্বশেষ নিউজ

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোতে আবারও আন্দোলন শুরু: হুমকির মুখে বিদ্যুৎ সেবা

নিজস্ব প্রতিবেদকবিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করে সম্প্রতি বিভিন্ন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ১৫ জনেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করার প্রতিবাদে চার দফা দাবি নিয়ে সারাদেশের ৮০টি...

তিন দফা দাবিতে পাবিপ্রবির স্থাপত্য বিভাগের অবস্থান কর্মসূচী 

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি নিয়ে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছেন স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে...

এক বছর পর ক্লাসে ফিরল নোবিপ্রবির এসিসিই বিভাগের শিক্ষার্থীরা

এক বছর পর শ্রেণিকক্ষে ফিরল নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এসিসিই) বিভাগের শিক্ষার্থীরা।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছ থেকে ডিগ্রি জটিলতার...

চবি শিক্ষার্থীদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে জাবিতে মানববন্ধন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা ও প্রশাসনের নিশ্চুপ থাকার প্রতিবাদে মানবনন্ধন করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।রবিবার (৩১ আগষ্ট) বিকাল চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান...

সম্পর্কিত নিউজ

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোতে আবারও আন্দোলন শুরু: হুমকির মুখে বিদ্যুৎ সেবা

নিজস্ব প্রতিবেদকবিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করে সম্প্রতি বিভিন্ন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ১৫ জনেরও বেশি...

তিন দফা দাবিতে পাবিপ্রবির স্থাপত্য বিভাগের অবস্থান কর্মসূচী 

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি নিয়ে অবস্থান কর্মসূচী...

এক বছর পর ক্লাসে ফিরল নোবিপ্রবির এসিসিই বিভাগের শিক্ষার্থীরা

এক বছর পর শ্রেণিকক্ষে ফিরল নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড...