প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, গত ছয় মাসে বাংলাদেশের অর্থনীতি যে হারে পুনরুদ্ধার হয়েছে, তা একটি ‘মিরাকল’। তিনি জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে দেশের অর্থনীতি এমন এক পরিস্থিতিতে পৌঁছেছিল, যা যেকোনো সময় সংকট সৃষ্টি করতে পারত।
বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশ (ডিজেএফবি) আয়োজিত ‘ডিজেএফবি টক’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেয়ার সময় শফিকুল আলম এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিজেএফবির সভাপতি হামিদ-উজ-জামান।
প্রেস সচিব আরও বলেন, “গণমাধ্যমে খবর দেখলাম একটি মসজিদ তৈরিতে ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু স্থানীয় পাড়া কমিটিগুলো ৩ কোটি টাকায় এটি তৈরি করতে পারত। এটি অপচয় এবং চুরির উৎস।” তিনি এও জানান যে, এনার্জি খাতে ডিসিপ্লিন ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন রয়েছে এবং এ খাতে ডাকাতি হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে স্থায়ী সমাধান করতে বড় পাওয়ার কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। একইসঙ্গে গ্যাসের জন্য অনেক কূপ খনন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
শফিকুল আলম চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে বলেন, “বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এ ছাড়া রি-এক্সপোর্টের জন্য চট্টগ্রামের দক্ষতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। বিশ্বের বড় কোম্পানির সঙ্গে আমরা এ নিয়ে আলোচনা করছি।”
এছাড়া, তিনি ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতার কথা তুলে ধরে বলেন, “ব্যাংক থেকে টাকা চুরি হয়েছে, আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান নিজের জন্য টানেল তৈরি করেছিলেন। অর্থনীতি প্রায় কলাপস হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু গত ছয় মাসে এটি যেভাবে পুনরুদ্ধার হয়েছে, তা একটি মিরাকল।”
তিনি আরও জানান, “আগের সরকার বাজেটের বড় অংশ বিদেশি ঋণ পরিশোধে খরচ করেছে, আর অপচয়ের বিরুদ্ধে ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে। অতীতে সরকারের হাতে যে কিছু টাকা ছিল, তা অপচয়ে চলে গেছে।”
প্রেস সচিব অবশেষে বলেন, “এনার্জি সিস্টেমে দক্ষতা না থাকলে কোনো বিনিয়োগ হবে না। পাওয়ার সিস্টেমে ডাকাতি হয়েছিল এবং রেভিনিউ সিস্টেম কার্যকর ছিল না। এমন এক ব্যবস্থা পেয়েছি যেখানে গত সরকার অপচয় করেছে এবং জনগণের টাকাকে নষ্ট করেছে।”