জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আওয়ামী লীগের বিগত ১৫-১৬ বছরের শাসনামলে যাঁরা নানা নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাঁরা গত বছরের ৫ আগস্ট অবশ্যই নতুন করে স্বাধীন হয়েছেন।
এনসিপির এই নেতা বলেন, আর যাদের ব্যাংক-ব্যালেন্স অক্ষুণ্ন ছিল, যারা আপস করে বিরোধী রাজনীতি করেছে, তাদের কাছে হয়তো এটা স্বাধীনতা মনে হয় না। কারণ, তারা হয়তো সব সময় স্বাধীন ছিল। আগের আমলে ছিল, এখনো আছে। তাদের কাছে প্রথম স্বাধীনতাও গুরুত্বপূর্ণ না, দ্বিতীয় স্বাধীনতাও গুরুত্বপূর্ণ না; তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে লুটপাটের স্বাধীনতা।
বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ণ টাওয়ারে জাতীয় নাগরিক পার্টির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন।
২০২১ সালের ‘আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনে’ শহীদদের তালিকা প্রকাশ, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও বিচারের দাবিতে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে এনসিপি।
আলোচনায় নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘গতকাল দেখলাম যে প্রথম স্বাধীনতা, দ্বিতীয় স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ক। আমরা যারা গত ১৬ বছরে এই ঘটনাগুলোর ভিকটিম ছিলাম, আমাদের কাছে এটা অবশ্যই স্বাধীনতা। ৫ আগস্ট আমরা আসলে নতুন করে স্বাধীন হয়েছি। যারা এই গত ১৫-১৬ বছর নির্যাতিত হয়েছি, নিপীড়িত হয়েছি।’ এ প্রসঙ্গে আলোচনায় যাঁদের কাছে ৫ আগস্ট স্বাধীনতা মনে হয় না, তাঁদের নিয়ে ওই সব কথা বলেন তিনি।
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্যে দেশে হিন্দু নির্যাতনের গল্প প্রচার করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম। এ ধরনের ‘অপপ্রচার’ বন্ধ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা এখনো ভারতে অবস্থান করছেন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারত গণহত্যাকারীদের নিজ দেশে আশ্রয় দিয়ে কোনো ভালো উদাহরণ তৈরি করছে না। বাংলাদেশে বিচার কার্যক্রম এগোচ্ছে এবং বিচার কার্যক্রম এগোলে কূটনৈতিকভাবে যাঁরা দোষী, যাঁরা অপরাধী, মামলার আসামি যাঁরা রয়েছেন, শেখ হাসিনাসহ তাঁদের ফেরত চাওয়া হলে ভারত সরকার সহযোগিতা করবে, এটা প্রত্যাশা থাকবে। আর এটার মাধ্যমেই বোঝা যাবে যে ভারত বাংলাদেশের প্রতি কতটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী।
২০২১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিবিরোধী আন্দোলনে যাঁরা মারা গেছেন, তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সরকারের কাছে সেই হত্যার বিচার এবং যথাযথ মর্যাদা প্রত্যাশা করেন। সেই শহীদদের তালিকা ও সংখ্যা প্রকাশ করা এবং দোষীদের বিচার ও যথাযথ মূল্যায়নের বিষয়টি যেন সরকার আমলে নেয়, সেই দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা।