রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচনে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসিন খান। রাকসুর ৬৩ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন একজন নারী।
শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভিপি পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন তাসিন খান।
রাকসু নির্বাচন ঘিরে সম্ভাবনা ও সংকট প্রসঙ্গে তাসিন বলেন, ‘রাকসু নিয়ে যে পরিমাণ সম্ভাবনা এবং আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা দিনে দিনে কমে আসছে। আমি বিশ্বাস করি, রাকসু সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু নির্বাচন কমিশন যেভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপেক্ষা করে লেজুড়বৃত্তিক সংগঠনগুলোর মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা হতাশাজনক।’
তিনি আরও বলেন, ‘চতুর্থবারের মতো তফসিল ও নির্বাচনের দিন পরিবর্তন আমাদের মনে শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। এছাড়া এখনো নির্বাচন উপযোগী পরিবেশ তৈরি হয়নি। একজন নারী প্রার্থী হিসেবে এটি আমার জন্য আরও ভয়াবহ হতে পারে। সাইবার বুলিং রোধেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। শুধু প্রার্থীরাই নয়, ভোটারদের নিরাপত্তাও এখনো অনিশ্চিত।’
তাসিন খান জানান, ‘আমি আশাবাদী। আমার কাজ, ইশতেহার, অ্যাক্টিভিটি—সবকিছু বিবেচনা করে যদি শিক্ষার্থীরা আমাকে যোগ্য মনে করেন, তাহলে তারা আমাকে নির্বাচিত করবেন। জিতব কি না সেই চিন্তার চেয়ে আমি আমার কাজেই মনোযোগ দিচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচিত হই বা না হই, ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাব। তবে নির্বাচিত হলে ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু করে যেতে পারব।’
নারী প্রার্থী হিসেবে প্রতিবন্ধকতা নিয়ে তাসিন বলেন, ‘আমি খুব সাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছি। আমার কোনো সাংগঠনিক সাপোর্ট নেই, বিশাল ফান্ডিং নেই, কর্মীবাহিনীও নেই। একজন নারী প্রার্থী হওয়ায় বুলিং, হ্যারাসমেন্টসহ বিভিন্ন অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পড়ার আশঙ্কা বেশি।’
তিনি জানান, “তবে আমি সব প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেখা যাক কতদূর যাওয়া যায়। জুলাইয়ে মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখে এসেছি, তাই এখন ভয় তেমন একটা কাজ করে না।”
১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত রাকসুতে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১৪টি নির্বাচনে কোনো নারী ভিপি প্রার্থী ছিলেন না। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে তাসিন খানই হবেন ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রথম নারী প্রার্থী। শুধু তাই নয়, ছাত্রী হলের আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীও কেন্দ্রীয় সংসদের বিভিন্ন শীর্ষ পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন।
৩১ আগস্ট: বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ
১–৪ সেপ্টেম্বর: মনোনয়নপত্র দাখিল, ৬–৭ সেপ্টেম্বর: মনোনয়নপত্র বাছাই, ৮ সেপ্টেম্বর: প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ, ৯ সেপ্টেম্বর: আপত্তি গ্রহণ ও নিষ্পত্তি, ১০ সেপ্টেম্বর: মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার, ১১ সেপ্টেম্বর: প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ, ২৫ সেপ্টেম্বর: ভোটগ্রহণ।
এই নির্বাচন কেবল দীর্ঘদিনের শূন্যতা পূরণ নয়, বরং একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত। তাসিন খানের প্রার্থীতা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে—বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে।