দেশের ফুটবল অঙ্গণে নতুন এক যুগেরই যেন সূচনা হয়েছে। ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষায় ছিল এমন এক নায়কের যে দেশীয় ফুটবলের আবহকে বদলে দেবে । ঠিক এমন সময়ে দেশে এলেন হামজা দেওয়ান চৌধুরী। সেই অপেক্ষার কী তবে অবসান হবে, তা হয়তো মাঠের খেলাই জানান দিবেন হামজা। যার নামে শুধু এশিয়া নয়, গোটা ফুটবলবিশ্ব বাংলাদেশকে চিনবে।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া পেরিয়ে হামজা চৌধুরীর বাংলাদেশ জাতীয় দলে যোগদানের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। তিনি এখন বাংলাদেশি ফুটবলার হিসেবেই দলের সাথে ভারতের শিলংয়ে অবস্থান করছেন।
মাতৃভূমির টানে টেমস নদীর তীর থেকে বুড়িগঙ্গার তীরে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে খেলতে এসেছেন বাংলাদেশের এই গর্বিত সন্তান! যার ফলে ফুটবলপ্রেমিদের মধ্যমণিতে পরিণত হয়েছেন হামজা চৌধুরী।
জন্ম ইংল্যান্ডের লেস্টার শহরে হলেও শৈশবের অনেকটা সময় কাটিয়েছেন বাংলাদেশেই।
হামজা চৌধুরীর মা রাফিয়া চৌধুরী একজন বাংলাদেশি নাগরিক এবং হামজার জন্মদাতা পিতা ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের দেশ গ্রেনাডার নাগরিক ছিলেন। তবে, হামজা যখন এক বছর বয়সী ছিলেন তখন তার মা রাফিয়া চৌধুরী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক দেওয়ান মোরশেদ চৌধুরীকে বিবাহ করেন। পরবর্তীতে দেওয়ান মোরশেদ চৌধুরী হামজাকে নিজের সন্তান হিসেবেই লালন-পালন করেন। এই দুই জনের বাড়িই সিলেটের হবিগঞ্জে।
এদিকে, হামজাকে বাংলাদেশ দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই তাকে অনেকটা উচ্ছ্বাসিত দেখা যায়। কেননা প্রথম দিনের ট্রেনিং সেশনেই টিমমেটদের সাথে দারুণ ভাবে মানিয়ে নিয়েছেন তিনি।
অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা হামজা চৌধুরাই আগামী ২৫ মার্চ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তার দক্ষতার প্রমাণ করবেন। এইদিন শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
হামজা চৌধুরী ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের লেস্টার সিটির হয়ে খেলার অভিজ্ঞ একজন ফুটবলার। তিনি ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের শেফিল্ড ইউনাইটেডে ধারে খেলছেন।
বাংলাদেশের জাতীয় দলে তার অন্তর্ভুক্তি ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে আলাদা এক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। হামজার মতো বিশ্বমানের ফুটবলারের ছোঁয়ায় বাংলাদেশের মরচে ধরা ফুটবল বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়াবে বলেই বিশ্বাস ক্রীড়াবিশ্লেষকদের।