কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বেড়েছে চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা। প্রতিদিন বাসা-বাড়ি, অফিস কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঘটছে চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা। সন্ধ্যার পর ভৈরবের শহর ও গ্রামীণ সড়কের কোথাও না কোথাও ছিনতাইয়ের ঘটনাও যেন নিত্যদিনের। এতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে জনমনে।
অভিযোগ রয়েছে— প্রশাসনের ঢিলেঢালা অভিযানের কারণেই রোধ করা যাচ্ছে না ছিনতাই। এর প্রতিবাদে গতকাল বুধবার মধ্যরাতে ভৈরব দুর্জয় মোড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ভৈরব শাখার ব্যানারে এক মশার মিছিলের আয়োজন করা হয়। আলো প্রোজ্জ্বলিত মশাল হাতে নিয়ে দুর্জয় মোড় থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের শেষ হয়।
শহীদ মিনারে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ছাত্র নেতারা জানান, ভৈরবে ছিনতাই দীর্ঘদিনের সমস্যা। বারবার প্রশাসনের স্থানীয়দের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিলেও বন্ধ হচ্ছে না ছিনতাই। প্রশাসন যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে যৌথ বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে ভৈরবে ছিনতাইকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনেন, শিক্ষার্থীরা সেই দাবি জানান।
তারা অভিযোগ করেন, ভৈরবের ছিনতাইকারা চিহ্নিত, এটা প্রশাসনসহ স্থানীয়রা জানলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ভৌগোলিক অবস্থার কারণে প্রাচীনকাল থেকেই ভৈরবের সুখ্যাতি রয়েছে, রেল ও সড়কপথে যোগাযোগের সহজ মাধ্যম হওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা প্রতিদিন ভৈরব শহরে প্রয়োজনের তাগিদে আসতে হয়। কিন্তু এসব ব্যবসায়ীরা ভৈরবে এসে প্রায়ই ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হতে হয়। শুধু বহিরাগতরাই নয় স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি পেশার লোকজন ছিনতাইকারীদের কবলে পড়তে হয়।
রাতে নেশাগ্রস্ত হয়ে ভৈরব শহরের রেলস্টেশনসহ আশপাশের এলাকায় ঘুরে বেড়ায় একশ্রেণীর তরুণ যুবক। ছিনতাইয়ের ঘটনায় রেলওয়ে স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড, পাওয়ার হাউজ, নাটালের মোড়, গাছতলা ঘাট, মেঘনা নদীর তীরের বেদি সেতুসংলগ্ন, সম্ভুপুর রেলগেট, চন্ডিবের, স্টেডিয়ামের সামনে, ভৈরব গার্লস স্কুলের সামনে, নদী বাংলা সেন্টার পয়েন্ট, কোম্পানি মোড়, ঘোড়াকান্দা, নিউটাউন, পঞ্চবটি, নদীর পাড়, শম্ভূপুর কবরস্থান, পানাউল্লাহচর ভুষির মিল, সংলগ্ন এলাকায় ছিনতাইকারীরা ওঁত পেতে থাকে তারপর সুযোগ বুঝে পথচারীদের পথ রোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে টাকা-পয়সা মোবাইলসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। তাই বর্তমানে ছিনতাই আতঙ্কে পার্শ্ববর্তী অন্য জেলা থেকে ভৈরবে ব্যবসায়ীরা আসলেও আতঙ্কে থাকতে হয় ফলে ভৈরবের ব্যবসা-বাণিজ্যে কিছুটা মন্দা ভাব দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় ও ভৈরব থানার সূত্র থেকে জানা যায়, বিগত ২০০৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ছিনতাইকারীদের হাতে আহত হয়েছে কয়েকশো, নিহত হয়েছে অন্তত ১৮ থেকে ২০ জন। নিহতদের মধ্যে ভৈরব থানার সাবেক উপ পুলিশ পরিদর্শক মুস্তাফিজুর রহমান, কনস্টেবল আরিফ, শিক্ষানবিস আইনজীবী অ্যাডভোকেট পলাশ প্রাণ কোম্পানির এসআর উল্লেখযোগ্য।
মশাল মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য করা হলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কিশোরগঞ্জ জেলার মুখ্য সংগঠক শরিফুল হক জয়। আতিকুজ্জামান আলভী, যুগ্ম আহ্বায়ক, জেলা কমিটি কিশোরগঞ্জ। আলফা হোসেন তানভীর, সদস্য কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটি। এছাড়াও ভৈরব প্রতিনিধিরা হলেন, মোহাম্মদ কাইসার আহমেদ রোহান, ইতি শিকদার, রিসাদ কবির, মেহেদী সোহেল আবির প্রমুখ।