সিলেটের গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান ম্যোল্লা বলেছেন, ‘যে অপরাধ করেছে, সেই অপরাধী।’ তার মতে— যদি কোনো ব্যক্তি আওয়ামী লীগ সমর্থক থাকেন এবং পরবর্তীতে সেই সমর্থন প্রত্যাহার করে, তবে তাকে গ্রেফতার করার কোনো কারণ নেই। তিনি আরও বলেন, ‘যদি কেউ ভালো হয়ে যায়, তবে কেন তাকে গ্রেফতার করা হবে?’
ওসি আরও মন্তব্য করেন, ‘অনেক আওয়ামী লীগ কর্মী ফ্যাসিজমের চিত্র দেখে সেই দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তারা নিরপরাধ।’ তবে, তিনি জানিয়ে দেন, যারা রাজপথে মিছিল, মিটিং করে এবং মানুষ হত্যার সাথে জড়িত ছিল, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই বক্তব্য তিনি তানভীর হাসান রাহিন নামক এক ব্যক্তির সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের সময় বলেন। তানভীর পরবর্তীতে এই রেকর্ডটি তার ফেসবুক আইডিতে আপলোড করে লিখেছেন, ‘কথার মধ্যে কি আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নের রহস্য পাচ্ছেন?’
তানভীর আরও প্রশ্ন করেন, ‘এজহারভুক্ত আসামির সঙ্গে আপনি থানায় বসে প্রোগ্রাম করতে পারেন কি না?’ এই প্রশ্নের উত্তরে ওসি বলেন, ‘যতক্ষণ না আসামির অপরাধ প্রমাণিত হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি অবশ্যই পারেন।’
ওসির এই বক্তব্যের পর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় বইছে। বিশেষ করে ফেসবুকে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা এই কর্মকাণ্ডে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। এক সংবাদকর্মী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘গোলাপগঞ্জ থানার ওপেন হাউজ ডেতে কোনো সাংবাদিক আমন্ত্রণ পাননি, তবে বক্তব্য দিলেন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।’
বিষয়টি জানতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মোল্ল্যাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এছাড়া ফেস দ্যা পিপলের পক্ষ থেকে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকেও একাধিকবার ফোন করা হয়। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি।