নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অমান্য করে সম্প্রতি বিভিন্ন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ১৫ জনেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করার প্রতিবাদে চার দফা দাবি নিয়ে সারাদেশের ৮০টি সমিতিতে আবারও আন্দোলন শুরু হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজে যোগ না দিয়ে অফিস প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এতে কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে এবং বিদ্যুৎ সেবা ব্যাহত হয়।
⸻
আন্দোলনের পটভূমি
বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) নিয়ন্ত্রণাধীন সমিতিগুলোতে দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের। ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে ২০০-র বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী শাস্তির মুখে পড়েছেন।
যদিও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় সমাধানের লক্ষ্যে একাধিক কমিটি গঠন করেছিল, তবে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। উল্টো, বোর্ড কর্তৃপক্ষ আধিপত্য বজায় রাখতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।
গত ৫ জুন ২০২৫ তারিখে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় তিনটি কমিটি গঠন করে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছিল—“কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।” কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে ৮ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ১৫ জনেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
⸻
কর্মকর্তাদের ক্ষোভ
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বোর্ডের চেয়ারম্যান (একজন সেনা কর্মকর্তা) ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। তাদের ভাষ্য—
“আমাদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে বারবার শাস্তি ও হয়রানিমূলক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে আর চলতে দেওয়া হবে না।”
⸻
চার দফা দাবি
আন্দোলনকারীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। এগুলো হলো—
১. পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ ও বাস্তবায়নের রূপরেখা ঘোষণা
• আরইবি-পিবিএস একীভূতকরণ অথবা কোম্পানি গঠন সংক্রান্ত সুপারিশ
• সকল চুক্তিভিত্তিক/অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণ
• মামলা প্রত্যাহারপূর্বক চাকরিচ্যুতদের স্বপদে পুনর্বহাল
• অন্যায়ভাবে বদলি/বরখাস্তদের পুনঃপদায়ন
২. ১৭ আগস্ট থেকে অদ্যাবধি হয়রানিমূলকভাবে বরখাস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনর্বহাল
৩. জরুরি সেবায় নিয়োজিত লাইনক্রুদের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ ও পূর্বের কর্মস্থলে যোগদানের সুযোগ দেওয়া
৪. পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ
⸻
এ আন্দোলনের ফলে বিদ্যুৎ সেবা ব্যাহত হওয়ায় গ্রাহকরা চরম ভোগান্তিতে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।